কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম
এমন অনেক কৃষক আছেন যারা অনেক হতদরিদ্র এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকার কারণে ঠিকভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারে না। তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কৃষি ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের লোন দিয়ে থাকে। আপনিও যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকেন তাহলে কৃষি ব্যাংক থেকে কিভাবে লোন নিবেন বা কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়েই শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আশা করছি আপনার মনে থাকা সকল প্রশ্নের উত্তর এই পোষ্টেই পেয়ে যাবেন।
কৃষি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
কৃষি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার জন্য যে সকল কাগজপত্র দরকার হয় এগুলো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা আছে। ঋণের ধরন এবং সময়কাল অনুযায়ী সুদের হার যেমন ভিন্ন ভিন্ন হয় ঠিক তেমনি রিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও কাগজপত্রের কম বেশি হতে পারে। ঋণের ধরন অনুযায়ী কোন ধরনের ঋণের জন্য কি কি কাগজপত্র দরকার হবে এগুলো জানার জন্য নিচের দিকে ভালোভাবে পড়তে থাকুন।
শস্য ঋণ পেতে যা যা লাগবে
- শরীরের জন্য লোন করতে হলে আপনার সর্বপ্রথম দরকার হবে ভোটার আইডি কার্ড এর ফটোকপি।
- আবেদনকারীর অর্থাৎ আপনি যদি আবেদন করে থাকেন তাহলে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন হবে।
- আপনি যে এলাকায় বসবাস করেন সে এলাকার চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট অথবা নাগরিক সনদপত্র।
- শস্য খেতে ঋণ পেতে হলে কোন ধরনের দলিলপত্র দরকার হয় না।
মেয়াদী ঋণ পেতে যা যা লাগবে
- ভোটার আইডি কার্ডের দুই কপি ফটোকপি লাগবে।
- আপনার পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি দরকার হবে।
- নাগরিক সনদপত্র অথবা চেয়ারম্যান থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।
- কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য যে জমির উপর লোন নিতে চাচ্ছেন সে জমির খতিয়ান জমা দিতে হবে।
- যে জমি দিয়ে ঋণ নিবেন সেই জমির খাজনা দিতে হবে এবং অবশ্যই এক্ষেত্রে খাজনা পরিষদ থাকতে হবে।
- আপনার জমিটি যদি নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়ে থাকে তাহলে এক্ষেত্রে দরকার হবে খাজনার দাখিল সহ পূর্বের দখলদারি সার্টিফিকেট।
- আপনার এই জমিটি যদি উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা পূর্বপুরুষের থেকে পেয়ে থাকেন তাহলে মূল খতিয়ান লাগবে
- আপনি যদি এই জমিটি কয় করে থাকেন তাহলে মূল দলিলের খারিজ খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ এর ফটোকপি দিতে হবে।
- কৃষি লোন পেতে এই জমিটি যদি আপনি ইজারার মাধ্যমে পেয়ে থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে খাজনার দাখিলা সহ দানপত্র।
কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়মজনপ্রিয় পোস্টসমূহ
বাংলাদেশের কৃষকরা সাধারণত আর্থিক দিক দিয়ে খুব বেশি প্রভাবশালী না। এজন্য হয়তো দরিদ্র কৃষকদের সাহায্য করার জন্য কৃষি ব্যাংক লোন দিয়ে থাকে। আপনিও যদি একজন কৃষক হয়ে থাকেন আর কৃষি ব্যাংক থেকে যদি লোন নিতে চান তাহলে এক্ষেত্রে আপনি কিভাবে লোন পেতে পারবেন এটা যেন খুবই জরুরী। চলুন তাহলে এবার জেনে নিন কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।
কৃষি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার জন্য অবশ্যই কিছু কাগজপত্র দরকার হবে এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে একজন কৃষক হতে হবে এবং ঋণ পরিশোধ করার জন্য সামর্থ্য থাকতে হবে। আপনি যদি কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে আপনার নিকটস্থ উপজেলা অথবা জেলা পর্যায়ে কৃষি ব্যাংকের যে শাখা রয়েছে সেখানে যেতে হবে ।
আরও পড়ুন>>>>কৃষি ব্যাংক লোন পরিশোধের নিয়ম ২০২৫ (আপডেট)জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
আপনাকে ঝণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। কৃষি ব্যাংক সাধারণত কৃষকদের আর্থিক অবস্থা এবং চাষের ধরন অনুযায়ী কৃষি ঋণ দিয়ে থাকে। যেন আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কৃষি ব্যাংকে যেতে হবে এবং লোন আবেদন করার মাধ্যমে ঋণ নিতে হবে।
কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এই লোন কৃষক এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট পেশার লোকদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। নিচে কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
যোগ্যতা নির্ধারণ
কৃষি ব্যাংক লোন সাধারণত কৃষক, মৎস্য চাষী, পশুপালক এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার লোকেরা পেতে পারেন।জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
বয়স নির্ধারণ
আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৬৫ বছর এর মধ্যে হতে হবে।
জমির মালিকানা বা লিজ
লোনের জন্য আবেদনকারীর নিজের জমি থাকতে হবে বা লিজ নেওয়া জমি থাকতে হবে।
কৃষি ব্যাংক লোনের ধরন ও উদ্দেশ্য
কৃষি ব্যাংক লোনের ধরন ও উদ্দেশ্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলঃজনপ্রিয় পোস্টসমূহ
ফসলী লোন
ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো।
যন্ত্রপাতি ক্রয় লোন
কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক্টর, হারভেস্টার ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য।
সেচ লোন
সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য।
পশুপালন লোন
গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদির জন্য।
মৎস্য চাষ লোন
মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো।
কৃষি ব্যাংক লোন আবেদন প্রক্রিয়া
কৃষি ব্যাংক লোন আবেদন প্রক্রিয়াগুলো নিচে উল্লেখ করা হলঃ
স্থানীয় কৃষি ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ
আবেদনকারীকে তার স্থানীয় কৃষি ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।
আবেদন ফর্ম সংগ্রহ ও পূরণ
ব্যাংক থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া
আবেদন ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবে।
লোন অনুমোদন
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সফল হলে লোন অনুমোদন করা হবে।
কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কৃষক এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট পেশার লোকেরা সহজেই লোন পেতে পারেন। লোনের সুবিধা ও শর্তাবলী ভালোভাবে বুঝে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া আবশ্যক।
কৃষি ব্যাংক পার্সোনাল লোন
যারা সীমিত আয়ের চাকরিজীবী আছে তারা কৃষি ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন নিতে পারবে। দেশের নাগরিকের সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১৮ ছেলের জানুয়ারি মাসে জারি করেছিল পার্সোনাল লোন স্কিম সংক্রান্ত নীতিমালা। আর যেসব নীতিমালার আওতা অনুযায়ী দেশের সরকারি ।
অথবা আধা সরকারি কিংবা সাহিত্য শাসিত এমপিও ভুক্ত স্কুল কলেজের যারা স্থায়ী কর্মকর্তাবৃন্দ আছেন তারা চাইলে কৃষি ব্যাংক থেকে নিতে পারেন পার্সোনাল লোন। এসবের আওতায় কেউ যদি কৃষি ব্যাংকের পার্সোনাল লোন পাওয়ার জন্য আবেদন করে থাকে তাহলে তাকে কৃষি ব্যাংকের পার্সোনাল লোন দেওয়া হয় এবং এর পরিব্যতে কৃষি ব্যাংক লোন ইন্টারেস্ট নিয়ে থাকে।
আর এই ইন্টারেস্ট রেট অনুযায়ী সুদের পরিমাণ যে পরিমাণ আসে এটা প্রতিমাসের বেতন থেকে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে কর্তন করা হয়।
কৃষি ব্যাংক সিসি লোন
কৃষি ব্যাংক সিসি লোন এই লোনটি সাধারণত পরিচিত রয়েছে ক্রেডিট কার্ড লোন নামে। এর বিশেষ একটি সুবিধা পেয়ে থাকে কৃষকগণ। তাই কৃষি ব্যাংকের এই সিসি লোন কৃষকদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকা পালন করে। কৃষকগণ এ লোনের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন করার জন্য উন্নত সব যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করতে পারে।
কৃষকগণ এই সিসি লোনের আওতায় কোন একটি নির্দিষ্ট কৃষি ব্যাংক লোন এর যে ইন্টারেস্ট রেট রয়েছে এটার মাধ্যমে মৌলিক সুদ পরিষদ করার সুযোগ পায়। সাধারণত অন্যান্য যে সকল ঋণ আছে সে ঋণের সুদের হারের থেকে সিসি লোনের সুদের হার অনেকটাই কম। যে কারণে এটা দিয়ে কৃষকগণ বেশি উপকৃত হয়।
কৃষি ব্যাংক গাভী লোন
কৃষি ব্যাংক গাভী লোন কথাটি শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এটা গরু খামারজাতকরণের সাথে সম্পৃক্ত। কৃষি ব্যাংক গাভী লোন এর আওতায় সাধারণত পোল্টি এবং দুগ্ধগামী গাভী উৎপাদন করার বড় একটি সুযোগ আছে। এছাড়া আর কৃষি ব্যাংক গাভী লোন সার্কুলার আরো উল্লেখ রয়েছে যে কৃষগণ চাইলে এ ঋণ দিয়ে আরো বিভিন্ন ধরনের যেমন –
ধান চাষ, ফলমূল চাষ, প্রাণী সম্পদ খাত ইত্যাদিও করতে পারে। কৃষি ব্যাংক কৃষকদের গাভি লোন এর জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সরল সুদে লোন দিয়ে থাকে।
লেখকের শেষ মতামত
সাধারণত কৃষি ব্যাংক লোন নেয়ার জন্য অবশ্যই নিকটস্থ কৃষি ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে। ব্যাংকের কর্মকর্তা থেকে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে নিতে হবে। ঐ আবেদন ফরমে যে সকল তথ্য খুজতেছে সেই সকল তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করে আবেদন ফর্ম ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এরপর, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার সকল তথ্য যাচাই বাছাই করে নিবেন যদি আপনি লোন নেওয়ার জন্য যোগ্য হন তাহলে আপনাকে ঋণ প্রদান করা হবে।
আজকের এই আর্টিকেলের সাহায্যে নিশ্চই কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কিত বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। এরপরেও যদি আপনাদের কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে অথবা মতামত থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
কৃষি ব্যাংক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৭৩
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কে?
সাবেক সচিব মো. নাসিরুজ্জামান
বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংকের শাখা কয়টি?
১০২৯টি
কৃষি ব্যাংক ঋণ সুদের হার ?
৯%
সাধারণ মানুষের জন্য খুব উপকারী
thank you so much dear.