গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কত? ২০২৫ (আপডেট)

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কত

আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কত এর সকল তথ্যগুলো জেনে থাকেন তাহলে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সেটা আপনার উপকারে আসবে। আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার অথবা যদি কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার তাহলে এক্ষেত্রে আপনার জানা দরকার ব্যাংকের সুদের হার কত সেই সম্পর্কে।  তাই এই সম্পর্কে আর্টিকেল জুড়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণ বিভিন্ন কারণে টাকার প্রয়োজন হলে তারা সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকে থেকে লোন নিয়ে থাকে। কৃষি কাজ থেকে শুরু করে গবাদি পশু পালন এবং আরো অন্যান্য খাতের জন্য লোন নেওয়া যায়। আপনাকে আবার ৪৪ কিস্তিতে কিছু লাভাংশ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কত বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি পড়তে থাকুন।

Table of Contents

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কত ?

গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার আগে আমাদের জানার ইচ্ছা জাগে যে সুদের হার কেমন হতে পারে।

গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণ মানুষের আর্থিক অবস্থা চিন্তা করে খুবই অল্প পরিমাণে সুদ নিয়ে থাকে। যাতে করে গ্রামীণ জনগণ খুব সহজে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে এবং চাষাবাদ কিংবা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু পরিমাণ সুদ দিতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের সাধারণত সুদের হার দিতে হয় ৬%।

যা গ্রাহকের জন্য অন্যতম এক ব্যাপক সুবিধা। আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন তাহলে এটা মাসিক কিস্তি অথবা সপ্তাহে কিংবা বাৎসরিক হিসেবেও নিতে পারবেন। গ্রামীন ব্যাংকে যতগুলো লোন পদ্ধতিতে আছে তার ভিতরে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষা দিন।

আরও পড়ুন>>> গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ

এটি নেওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করতে পারে এবং ঋণ পরিশোধ করার জন্য রয়েছে পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত সুবিধা । গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার নির্ভর করে ঋণের ধরন, পরিমাণ, মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তাবলীর উপর। গ্রামীণ ব্যাংক সাধারণত “ফ্ল্যাট রেট” বা সমতল সুদের হার পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেমের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। নিচে গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার

সাধারণ ক্ষুদ্র ঋণ: গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার সাধারণত ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত হয় (বার্ষিক ভিত্তিতে)। তবে এটি ফ্ল্যাট রেট হিসাবে গণনা করা হয়, অর্থাৎ ঋণের পুরো পরিমাণের উপর সুদ ধার্য করা হয়।

বিশেষ প্রকল্প বা ঋণ: কিছু বিশেষ প্রকল্প বা ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার কম বা বেশি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষা ঋণ, কৃষি ঋণ বা স্বাস্থ্য ঋণের জন্য সুদের হার আলাদা হতে পারে।

ক্ষুদ্রঋণ

নিয়মিত ঋণগ্রহীতা: ১০% (ফ্ল্যাট হার)

অনিয়মিত ঋণগ্রহীতা: ২০%

উচ্চশিক্ষা ঋণ

পড়াশোনার সময়: সুদমুক্ত

পড়াশোনা শেষে: ১০%

জীবিকা ঋণ

কৃষি ঋণ: ৮%

অন্যান্য: ১০%

সুদের হার গণনার পদ্ধতি

গ্রামীণ ব্যাংক ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেমের রিডিউসিং ব্যালেন্স পদ্ধতি থেকে আলাদা। ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতিতে ঋণের পুরো পরিমাণের উপর সুদ ধার্য করা হয়, এমনকি যদি ঋণ পরিশোধের সময়কালে মূলধন কমে যায়।

উদাহরণ:

যদি কেউ ১০,০০০ টাকা ঋণ নেয় এবং সুদের হার ২০% হয়, তাহলে বার্ষিক সুদ হবে ২,০০০ টাকা।

ঋণের মেয়াদ ১ বছর হলে, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ হবে ১২,০০০ টাকা (১০,০০০ টাকা মূলধন + ২,০০০ টাকা সুদ)।

সুদের হার কেন বেশি ?

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার কারণগুলো হলো:

প্রশাসনিক ব্যয়: ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের জন্য গ্রামীণ ব্যাংককে অনেক বেশি প্রশাসনিক কাজ করতে হয়, যেমন ঋণগ্রহীতার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, ঋণ ট্র্যাকিং ইত্যাদি।

জামানতবিহীন ঋণ: ক্ষুদ্র ঋণ সাধারণত জামানতবিহীন হয়, তাই ঝুঁকি বেশি থাকে।

সামাজিক উন্নয়ন মডেল: গ্রামীণ ব্যাংক শুধু আর্থিক লাভের জন্য নয়, সামাজিক উন্নয়নের জন্যও কাজ করে, যা কিছু অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করে।

সুদের হার কমানোর উদ্যোগ

গ্রামীণ ব্যাংক সময়ে সময়ে বিশেষ প্রকল্প বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেয়। উদাহরণস্বরূপ, কৃষি ঋণ বা মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুদের হার প্রযোজ্য হতে পারে।

সুদের হার সম্পর্কে সচেতনতা

ঋণগ্রহীতাদের উচিত ঋণের শর্তাবলী, বিশেষ করে সুদের হার ও পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সাধারণত ঋণগ্রহীতাকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

সুদের হার পরিবর্তন

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ সুদের হার জানতে সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করা বা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করা উচিত।

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা। তবে ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার ও অন্যান্য শর্তাবলী ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।

গ্রামীণ ব্যাংক লোন পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিবেন তাহলে একেত্রে আপনার কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হবে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন হবে তা নিম্নে উল্লেখ করে দেয়া হল –

গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু মাত্র শিক্ষালয় ব্যতীত অন্যান্য যে লোনগুলো আছে এগুলো পেতে অবশ্যই গ্রহিতাকে বিবাহিত হতে হবে।

  • আবেদনকারের পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থাৎ এন আই ডি কার্ডের ফটোকপি।
  • যে ব্যক্তি ঋণ নিতে চায় এক্ষেত্রে অবশ্যই তার নিজস্ব ঘরবাড়ি থাকতে হবে।
  • রিন নেওয়ার ক্ষেত্রে নমিনি হিসেবে যাকে দিবেন তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি দরকার হবে।
  • প্রথমবার কেউ যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে চাই তাহলে এক্ষেত্রে ৫০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারে।
  • গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য নাগরিক সনদপত্র অর্থাৎ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
  • কখনো কখনো আবার চারিত্রিক সনদপত্র জমা দেওয়া লাগতে পারে।
  • ঋণ নেওয়ার জন্য ৫% সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

গ্রামীণ ব্যাংক কি কি লোন দেয় ?

গ্রামীণ ব্যাংক অনেক প্রকারের লোন প্রদান করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে গ্রামে অর্থনীতি এবং এর বিকাশকে আরো বেশি বিকশিত করে। আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে আবেদন করতে হবে এবং এর সাথে দরকার হবে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেগুলো অবশ্যই আপনাকে নিয়ে যেতে হবে।

আবেদন করার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী ঋণের মূল্যায়ন করবে এবং দেখবে আপনার ঋণ পরিশোধ করে সামর্থ্য আছে কিনা। সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন পেয়ে যাবেন। গ্রামীণ ব্যাংক সাধারণত বিভিন্ন ধরনের লোন দিয়ে থাকে যেমন –

ক্ষুদ্র ঋণ

পশু সম্পদ ঋণ

কৃষি ঋণ

ব্যক্তিগত ঋণ

হাউজিং লোন

শিক্ষা লোন

আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে উপরে বর্ণিত এ সকল পদ্ধতিতে লোন নিতে পারবেন তবে অবশ্যই গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এ সকল ঋণ পাওয়ার জন্য আপনাকে ঋণ পাওয়ার জন্য যে সকল সত্য সমূহ আছে এগুলো মানতে হবে এবং ঋণ পাওয়ার যোগ্য হতে হবে। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন।

লেখকের শেষ মতামত

এই ছিলো গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সকল ধরণের প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক গ্রাম বাংলার ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের ব্যাংক। তাই আপনিও চাইলে এই ব্যাংক থেলে লোন নিয়ে সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

আজকের এই আর্টিকেলের সাহায্যে নিশ্চই গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সম্পর্কিত বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। এরপরেও যদি আপনাদের গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে অথবা মতামত থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের সুদ কত পারসেন্ট?

১২%

গ্রামীণ ব্যাংকের মূলধন কত?

২০২০ সালে মহামারির সময় ব্যাংকটি ৪৮১ কোটি টাকা মুনাফা করে

মোহাম্মদ ইউনূস কোন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন?

গ্রামীণ ব্যাংক

গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট

https://grameenbank.org.bd/

গ্রামীণ ব্যাংক কি ধরনের ঋণ দেয়?

ক্ষুদ্রঋণ

গ্রামীণ ব্যাংকের হেড অফিস কোথায়?

Grameen Bank, Head Office Mirpur-2, Dhaka-1216 Bangladesh

About Masum Siddique

Professional writer

View all posts by Masum Siddique →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *