গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন হিসেবে নূন্যতম ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে লোনের প্রকারভেদে ও শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোনের অর্থের পার্থক্য বিদ্যমান।
আমরা আজকের এই সম্পূর্ণ পোষ্টজুড়ে গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন সম্পর্কে আলোচনা করব যেমন গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন কারা পাবে, গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন নিতে কি কি লাগবে, গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন নেওয়ার যোগ্যতা, গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন আবেদন পদ্ধতি, গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন এর সুবিধা ও অসুবিধা এবং গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন পরিশোধের নিয়ম।জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা ঋণ (Education Loan) বাংলাদেশের দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। এই ঋণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে। নিচে গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা ঋণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন কারা পাবে
শিক্ষার্থী বাংলাদেশের নাগরিক যারা উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পেশাদার কোর্সে (যেমন মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন ইত্যাদি) ভর্তি হয়েছেন।
- দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের পরিবার: যাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল এবং উচ্চশিক্ষার খরচ মেটানো কঠিন।
- মেধাবী শিক্ষার্থী: যারা ভালো ফলাফল করেছে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে।
- গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য: সাধারণত গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য বা তাদের সন্তানরা এই ঋণ পেতে অগ্রাধিকার পান।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন নিতে কি কি লাগবে
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারী এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র: ভর্তির চিঠি, পরীক্ষার ফলাফল, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ইত্যাদি।
- আয়ের প্রমাণপত্র: পরিবারের আয়ের উৎসের প্রমাণপত্র (যেমন চাকরির সার্টিফিকেট, ব্যবসার লাইসেন্স ইত্যাদি)।
- দুইজন গ্যারান্টর: সাধারণত গ্রামীণ ব্যাংকের অন্য দুজন সদস্যকে গ্যারান্টর হিসেবে দিতে হয়।
- সদস্যতা: গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য হতে হবে।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন নেওয়ার যোগ্যতা
- আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ থাকতে হবে।
- উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে।
- পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হতে হবে।
- গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য হতে হবে।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন আবেদন পদ্ধতি
- গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা পরিদর্শন: নিকটস্থ গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করুন।
- আবেদন ফর্ম সংগ্রহ ও পূরণ: শিক্ষা ঋণের আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন: জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র, আয়ের প্রমাণপত্র, গ্যারান্টরদের তথ্য ইত্যাদি জমা দিন।
- সাক্ষাৎকার ও যাচাই: ব্যাংক কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাথে সাক্ষাৎকার নেবেন এবং তথ্য যাচাই করবেন।
- ঋণ অনুমোদন: আবেদন অনুমোদিত হলে ঋণের টাকা “Disbursement” করা হবে।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন এর সুবিধা
- সহজ শর্তে ঋণ: প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেমের তুলনায় সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
- উচ্চশিক্ষার সুযোগ: দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
- কম সুদের হার: শিক্ষা ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম।
- দীর্ঘমেয়াদী পরিশোধের সুবিধা: ঋণ পরিশোধের জন্য দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন এর অসুবিধা
- ঋণের পরিমাণ সীমিত: ঋণের পরিমাণ সীমিত হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার সম্পূর্ণ খরচ মেটানো সম্ভব নাও হতে পারে।
- গ্যারান্টর প্রয়োজন: ঋণ পেতে গ্যারান্টর দেওয়ার প্রয়োজন হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- ঋণ পরিশোধের চাপ: পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধের চাপ থাকতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন পরিশোধের নিয়ম
- মর্যাদা কাল (Grace Period): সাধারণত পড়াশোনা শেষ করার পর ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত মর্যাদা কাল দেওয়া হয়।
- মাসিক কিস্তি: মর্যাদা কাল শেষ হওয়ার পর মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হয়।
- জরিমানা: ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করলে জরিমানা দিতে হতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোনের পরিমাণ
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা ঋণের পরিমাণ সাধারণজ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।তবে এটা নির্ভর করে ঋণের পরিমাণ নির্ভর করে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধরন, প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উপর।জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন সুদের হার
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা ঋণের সুদের হার সাধারণত ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত হয় (বার্ষিক ভিত্তিতে)। গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা ঋণ বাংলাদেশের দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে সুবিধা ও অসুবিধাগুলো ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন সুযোগ সুবিধা
গ্রামীণ ব্যাংকে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে অনেক। এসব সুযোগ সুবিধা গুলোর মাধ্যমে গ্রামীন এলাকার মানুষরা খুব সহজেই তাদের জীবনকে আরো বেশি উন্নত করছে এবং আর্থিক দিক দিয়ে সচ্ছল হচ্ছে। এরিন এর মাধ্যমে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের আরো অনেক প্রসার ঘটাচ্ছে।
আরও পড়ুন>>> গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণজনপ্রিয় পোস্টসমূহ
গ্রামীণ ব্যাংকের যে সুবিধাগুলো রয়েছে তার ভেতরে অন্যতম হচ্ছে কিস্তি সুবিধা, পশু সম্পদ, ঋণ সুবিধা, মৌলিক ঋণ সুবিধা এমনকি ব্যাংক ওভারড্রাফট সুবিধা। আপনি আরো ভালোভাবে যাতে এ বিষয়গুলো বুঝতে পারেন এজন্য আমরা এখন এই সুযোগ সুবিধা গুলো দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি। চলুন তাহলে নিচের অংশটুকু পড়ে আমরা এই সুযোগ সুবিধা গুলো জেনে আসি।
কিস্তি সুবিধা
আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন তাহলে এটা কিস্তি আকারে পরিশোধ করার সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ লোন নেয়া অর্থ একবারে পুরোটা পরিশোধ না করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কিস্তি আকারে পরিশোধ করতে পারবেন। যা আপনার জন্য অনেক। এভাবে কিস্তি দেওয়ার ফলে লোন পরিশোধ করাটা অনেক সহজ হয় এবং ধীরে ধীরে ঋণ এর পরিমাণও কমে আসে।
সার্ভিস অ্যাকাউন্ট সুবিধা
গ্রামীণ ব্যাংক এ যে গ্রাহক রয়েছে তারা গ্রামীণ ব্যাংকের এই সুবিধাটি নিতে পারবে। আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংকে লোন নিয়ে থাকেন তাহলে এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনার আয়োজিত অর্থ সঞ্চয় হিসেবে রাখতে পারবেন। আবার সেই অর্থ থেকে নির্দিষ্ট লাভ অনুসারে যে টাকা হয় তাও উত্তোলন করে নিতে পারবেন।জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
মৌলিক ঋণ সুবিধা
গ্রামীণ ব্যাংকের যে সুবিধা গুলো আছে তার ভিতরে একটি অন্যতম হচ্ছে মৌলিক ঋণ সুবিধা। মূলত যারা গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন সদস্য তাদের জন্য এটা দেওয়া হয়ে থাকে। আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন সদস্য হিসেবে যোগদান করেন তাহলে এই সুবিধাটি পেয়ে যাবেন। এই মৌলিক ঋণের পরিমাণ হয়ে থাকে ১০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মূলত এটা নির্ভর করে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতার উপরে।
মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা
মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রামীণ ব্যাংকের অন্যতম একটি বড় সুবিধা। এই সুবিধাটির মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের যে গ্রাহক গন আছেন তারা খুব সহজে মোবাইল ফোন থেকে তাদের সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম গুলো সম্পাদন করতে পারেন। এতে করে আরেকটি বিষয়ের উপকৃত হওয়া যায় আর তা হচ্ছে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়।
ব্যাংক ওভারড্রাফট সুবিধা
গ্রামীণ ব্যাংকের যতগুলো গ্রাহক আছে তারা সকলেই এই সুবিধা পেয়ে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের অধিকতর সুবিধার কথা চিন্তা করে এই সিস্টেমটি চালু করেছে। এই সুবিধার মাধ্যমে আপনি ব্যাংকে যে পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন তার থেকেও অতিরিক্ত পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। যা হতে পারে আপনার জন্য একটি অনেক বড় সুবিধা।
পশু সম্পদ ঋণ সুবিধা
ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই আপনি গ্রামীণ ব্যাংকের সুবিধা গুলো জেনে গেছেন। গ্রামীন ব্যাংকের আরও একটা সুবিধা হচ্ছে পশু সম্পদ দিন সুবিধা। সাধারণত গ্রাহকগণ এই দিনটি নিয়ে থাকে পশু কেনা এবং পশু মোটা তাজা জাত করনি। আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এই ঋণ নিতে পারবেন ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ঋণ আপনি সাপ্তাহিক অথবা বছরের জন্য নিতে পারবেন।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি
গ্রামীণ ব্যাংক বিভিন্ন ধরণের লোন প্রদান করে থাকে হাউজিং লোন, শিক্ষা লোন , কৃষি লোন, ক্ষুদ্রলোন, পশু সম্পদ লোন এবং উদ্যোক্তা লোন নিতে পারবেন। চলুন তাহলে আমরা এবার বিস্তারিতভাবে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে আসি। বিস্তারিত জানতে নিচের অংশগুলো পড়তে থাকুন।দ
গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ
গ্রামীণ ব্যাংকের যতগুলো লোন সিস্টেম আছে তার ভেতরে জনপ্রিয় একটি ঋণ হলো ক্ষুদ্র ঋণ। আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এই ক্ষুদ্র ঋণ পেতে চান তাহলে খুব সহজ প্রক্রিয়ায় এবং অল্পতম সময়ের ভেতরে এই ঋণ পেতে পারবেন। যে কোন পেশার মানুষ এর ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংকের এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল তৈরি করে প্রত্যেকটি দলে কমপক্ষে ৫ জন সদস্য রাখা হয়।
গ্রামীণ ব্যাংক পশু সম্পদ ঋণ
অত্যন্ত গ্রামীন এলাকার কৃষকদের জন্য পশুপালন করার উদ্দেশ্যে এবং কল করার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক এই প্রশিসম্পদ লোন দিয়ে থাকে। মূলত বাংলাদেশের যে পশু পালন খাত আছে এটা কি আরো বেশি উন্নয়নশীল করতে এই ঋণ দিয়ে থাকে। যেসব পশু পালন করার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক অফিস সম্পদ ঋণ দেয় তা হচ্ছে –
- ভেড়া পালন
- গরু পালন
- ছাগল পালন
- হাঁস মুরগি পালন
- মৎস্য পালন
গ্রামীণ ব্যাংক কৃষি ঋণ
সাধারণত বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। এজন্য কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের কৃষকদের কথা মাথায় রেখে গ্রামীণ ব্যাংক কৃষি ঋণ দিয়ে থাকে। দেশের কৃষি ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য এবং কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের কৃষি কাজ পরিচালনা করার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক এই ঋণ দিয়ে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংকের এই কৃষি ঋণের আওতায় কৃষকরা যে সকল আবেদন করতে পারবে –
- কৃষির ঋণ পেতে পারবেন বীজ কীটনাশক এবং সার ক্রয় করার জন্য।
- জমি কিনা অথবা বন্দক নেওয়ার ক্ষেত্রে।
- কৃষি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম ক্রয় করতে।
- কৃষিভিত্তিক ব্যবসাগুলো বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্যে।
গ্রামীণ ব্যাংক হাউজিং লোন
প্রত্যেকটি মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক চাহিদা যেমন খাদ্য ও বস্ত্র, বাসস্থান এবং শিক্ষা, ও চিকিৎসা এগুলো প্রয়োজন। এজন্য গ্রামীণ ব্যাংক মানুষের এই কথাগুলো চিন্তা করে বাস স্থান অর্থাৎ ঘরবাড়ি নির্মাণ করার জন্য দিয়ে থাকে হাউজিং লোন। আর এই হাউজিং লোন প্রোগ্রামটি শুরু হয় ১৯৮৪ থেকে।
গ্রামীণ ব্যাংকের এ হাউজিং লোন প্রকল্পের আওতায় টিনশেড ঘরবাড়ি নির্মাণ করার জন্য ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। এই লোনের সুবিধার বিষয় হচ্ছে প্রতি সপ্তাহে কিস্তি পরিশোধ করতে পারা যায় এবং সর্বোচ্চ মেয়াদকাল হিসেবে ৫ বছর পর্যন্ত লোন পরিশোধ করা যায়।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন
আর্থিকভাবে যারা অসচ্ছল, অর্থের অভাবে যারা লেখাপড়া করতে পারে না এদের কথা চিন্তা করে গ্রামীণ ব্যাংক চালু করেছে শিক্ষা ঋণ। কারন শিক্ষায় হচ্ছে একটি জাতির মেরুদন্ড। গ্রামীণ ব্যাংক কোন ধরনের শিক্ষার্থীদের এই লোন দিয়ে থাকে তা আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হয়েছে ।
- মেডিকেল পড়ুয়া স্টুডেন্টরা
- ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-ছাত্রী
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা
- MA/MS/MBA শিক্ষার্থী
এছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংকের আওতায় অন্তর্ভুক্ত ১৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে নিতে পারেন এই শিক্ষা ঋণ। তবে গ্রামীণ ব্যাংকের এই শিক্ষা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ১বছর ধরে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য হতে হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ বছর। এই ঋণের সব থেকে বড় একটি সুবিধা হচ্ছে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় এই ঋণ পরিশোধের প্রয়োজন হয় না।
গ্রামীণ ব্যাংক উদ্যোক্তা ঋণ
আপনি যদি মনে করেন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তা ঋণ গ্রহণ করে আপনার ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ করবেন তাহলে নিতে পারবেন জ্ঞান ব্যাংকের উদ্যোক্তা দিন। উদ্যোক্তারা কোন কোন কাজের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের এই উদ্যোক্তা ঋণ নিতে পারবেন তার নিচে পয়েন্ট আকারে বিশ্লেষণ করা হলো।
- বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য
- ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে পূর্ণ সামগ্রী ক্রয়
- ব্যবসা অথবা কর্ম ক্ষেত্রে কর্মচারী নিয়োগ করার জন্য
- কারখানা নির্মাণ করার জন্য
- পণ্য সামগ্রিক বিপন্ন এবং তা প্রচার-প্রচারনের জন্য
উপরে বর্ণিত পয়েন্ট গুলোর উদ্দেশ্যে গ্রামীণ ব্যাংক উদ্যোক্তা ঋণ প্রদান করে। তবে অবশ্যই এডিন পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ বছর। এছাড়াও ব্যবসা পরিকল্পনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে হবে।
লেখকের শেষ মতামত
গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণের জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা লোনের জন্যেও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ পেয়েছে। খুব সহজ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক (কৃষক থেকে শুরু করে যেকোনো নারী) এই ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করতে পারে।
এই ছিলো গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যেখানে ঋণের সুবিধা ও অসুবিধা থেকে শুরু করে সকল ধরণের প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক গ্রাম বাংলার ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের ব্যাংক। তাই আপনিও চাইলে এই ব্যাংক থেলে লোন নিয়ে সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
আজকের এই আর্টিকেলের সাহায্যে নিশ্চই গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন সম্পর্কিত বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। এরপরেও যদি আপনাদের গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে অথবা মতামত থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষা লোন এর সুদের হার কত?
ক্ষুদ্রঋণ নিয়মিত ঋণগ্রহীতা: ১০% (ফ্ল্যাট হার) অনিয়মিত ঋণগ্রহীতা: ২০%
উচ্চশিক্ষা ঋণ পড়াশোনার সময়: সুদমুক্ত পড়াশোনা শেষে: ১০%
জীবিকা ঋণ কৃষি ঋণ: ৮% অন্যান্য: ১০% সুদের হার
গ্রামীণ ব্যাংক কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৮৩ সালের ২রা অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে আনুষ্ঠানিক জন্ম হয় গ্রামীণ ব্যাংকের। কিন্তু এর ভিত্তি রচিত হয়েছিলো আরো আগে, ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে।
গ্রামীণ ব্যাংক কি বিশেষায়িত ব্যাংক?
বিশেষায়িত অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক
গ্রামীণ ব্যাংকের Contact Number
+88 02 58055628, +88 02 58055652, (abroad)+88 02 48033770
গ্রামীণ ব্যাংকের Email Address
md.secretariat@grameenbank.org.bd, g_iprog@grameenbank.org.bd