ঢাকা ব্যাংক হোম লোন গ্রহন করতে চাইলে এই ব্যাংক এর লোন ক্রাইটেরিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। তাই আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য সাজানো হয়েছে। যারা ঢাকা ব্যাংকের গ্রাহক রয়েছেন তারা চাইলে স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করার জন্য ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন নিতে পারবেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাকে ঢাকা ব্যাংক হোম লোন সম্পর্কিত সকল তথ্য জানিয়ে দিব।
তাই আপনি যদি ঢাকা ব্যাংক হোম লোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে অবহেলা না করে পুরো পোষ্টটি একেবারে শুরু থেকে শেষ অবদি পড়ে ফেলুন। এই তথ্যগুলো আপনাকে হোম লোনের প্রক্রিয়া, শর্তাবলী এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা দেবে।
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন কি
ঢাকা ব্যাংক আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি বেসরকারি বানিজ্যিক ব্যাংক। আর ঢাকা ব্যাংক হোম লোন হচ্ছে মূলত একটি বিশেষ ধরনের লোন সুবিধা যা বাড়ি ক্রয় করা, নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য নেয়া হয়। এই লোনের মাধ্যমে আবাসন সমস্যা দূর করার জন্য গ্রাহকরা সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন।জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
এজন্য ঢাকা ব্যাংক গ্রাহকের কথা চিন্তা করে গ্রাহকের স্বপ্ন পূরণে তাদের পাশে রয়েছে। প্রতিটি গ্রাহকের স্বপ্ন থাকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট হব। গ্রাহকের স্বপ্নের বাড়ি তৈরির জন্য বিশেষ লোন হলো ঢাকা ব্যাংক হোম লোন।
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন কারা পাবে
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নেওয়ার বেশ কিছু শর্তাবলি রয়েছে। এসকল শর্ত মেনে আবেদনকারীকে অনুসরণ করে ঢাকা ব্যাংক থেকে হোম লোন নিতে হবে। আসুন তাহলে ঢাকা ব্যাংক হোম লোন কারা পাবে তা জেনে নেওয়া যাক:
- বাংলাদেশি নাগরিক: যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।
- স্থায়ী বা অস্থায়ী আয়ের উৎস: যাদের স্থিতিশীল আয়ের উৎস রয়েছে (যেমন: চাকরি, ব্যবসা, কৃষি ইত্যাদি)।
- জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক: যারা বাড়ি নির্মাণ বা কেনার জন্য জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক বা লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
এছাড়া আরও যারা ঢাকা ব্যাংক হোম লোন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন-জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
- কর্পোরেট ক্লায়েন্ট
- ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট
- বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা
- ব্যাংক/অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা
- ডাক্তার/প্রকৌশলী/চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট/প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা/প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের টিচিং স্টাফ।
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন পাওয়ার শর্তসমূহ
- জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা: বাড়ি নির্মাণ বা কেনার জন্য জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা বা লিজের প্রমাণপত্র থাকতে হবে।
- আয়ের স্থিতিশীলতা: লোন পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত আয় থাকতে হবে।
- জামানতের মান: জামানতের মান লোনের পরিমাণের চেয়ে বেশি বা সমান হতে হবে।
- কাগজপত্রের যথার্থতা: সকল কাগজপত্র সঠিক এবং বৈধ হতে হবে।
ঢাকা ব্যাংক হোম লোনের বৈশিষ্ট্য
ঢাকা ব্যাংকের হোম লোনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো সঠিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এজন্য আবেদনকারীর এসকল সকল তথ্য গ্রাহকের জেনে রাখা দরকার। ঢাকা ব্যাংক হোম লোনের বৈশিষ্ট্য সমূহ নিচে তুলে ধরা হলঃ:
- কম সুদের হার: অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় সুদের হার কম।
- দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ: লোনের মেয়াদ দীর্ঘ হওয়ায় মাসিক কিস্তি কম।
- বাড়ি কেনা, নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য: লোনের টাকা বাড়ি কেনা, নির্মাণ বা সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা যায়।
- সহজ শর্ত: তুলনামূলকভাবে সহজ শর্তে লোন প্রদান করা হয়।
- প্রারম্ভিক নিষ্পত্তি ফি: ১.৫০% + নিষ্পত্তির পরিমাণের ভ্যাট
- লোনের পরিমাণ: সর্বোচ্চ ১.২০ কোটি টাকা
- লোনের মেয়াদ: সর্বোচ্চ ২০ বছর
- ইকুইটি অনুপাত: ৭০:৩০ (লোন গ্রহনকারীর দ্বারা ৩০ শতাংশ)
- লোনের উদ্দেশ্য: ফ্ল্যাট ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ/ঋণ টেকওভার।
আরও পড়ুন>>> উত্তরা ব্যাংক হোম লোন ২০২৫ (আপডেট)
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নেওয়ার যোগ্যতা
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নিতে কি কি যোগ্যতা থাকতে হবে তা আবেদনকারীকে অবশ্যই জেনে রাখতে হবে। ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নেওয়ার যোগ্যতা নিচে উল্লেখ করা হলঃজনপ্রিয় পোস্টসমূহ
- বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- আয়ের উৎস: স্থিতিশীল আয়ের উৎস এবং লোন পরিশোধের সামর্থ্য থাকতে হবে।
- জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা: বাড়ি নির্মাণ বা কেনার জন্য জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা বা লিজের প্রমাণপত্র থাকতে হবে।
- জামানত: লোনের বিপরীতে জামানত বা সিকিউরিটি প্রদান করতে হবে।
- কাগজপত্র: সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ঢাকা ব্যাংকের হোম লোন গ্রহন করতে হলে আবেদনকারীকে বেশ কিছু কাগজপত্র থাকতে হবে প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে এসকল কাগজপত্রের মধ্যে মৌলিক কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তা নিম্নরূপ:
- আবেদনপত্র পূরণ করা এবং সিআইবি আন্ডারটেকিং স্বাক্ষর সহ।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি, স্বামী-স্ত্রী এবং গ্যারান্টর শাখা ব্যবস্থাপক দ্বারা প্রত্যয়িত
- জাতীয় পরিচয় পত্র/পাসপোর্ট এর ফটোকপি
- মূল্য উদ্ধৃতি ক্লায়েন্ট দ্বারা যথাযথভাবে গৃহীত
- সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের কপি
- পেশা সমর্থিত ইনকাম ডকুমেন্টস।
- টিন সার্টিফিকেট
- জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা বা লিজের প্রমাণপত্র
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বশেষ ৬ মাস)
- আয়ের প্রমাণপত্র (যেমন: চাকরির সার্টিফিকেট, ব্যবসার লাইসেন্স)
- জামানতের কাগজপত্র (যেমন: জমির দলিল)
- বাড়ি নির্মাণ বা কেনার পরিকল্পনা এবং খরচের বিবরণ
ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- ব্যবসায়িক লাইসেন্স।
- ট্যাক্স রিটার্ন কপি।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বশেষ ৬ মাস)।
- বৈধ ট্রেড লাইসেন্স (ইস্যু তারিখ থেকে নূন্যতম ৩ বছর)
- অংশীদারিত্ব ডিড (অংশীদারি হলে)
- অনুমোদন কপি এবং ঋণ হিসাব কপি ।
চাকরিজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- চাকরির সার্টিফিকেট।
- বেতন স্লিপ (সর্বশেষ ৩ মাস)।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বশেষ ৬ মাস)।
- বিগত ৩ মাসের পে স্লিপ
- ব্যাংক বিবৃতি যেখানে বেতন জমা হয়।
স্বেচ্ছাসেবী/পেশাগতদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- পেশাগত সনদপত্র।
- ট্যাক্স রিটার্ন কপি।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বশেষ ৬ মাস)।
- ডাক্তারদের জন্য BMDC সার্টিফিকেট
- আইনজীবীর জন্য বার কাউন্সিল সদস্যপদ সার্টিফিকেট
- অন্যান্য পেশাদারি সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
সম্পত্তি মালিকের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- মালিকানা ডিড কপি
- পরিশোধিত ইউটিলিটি যেমন গ্যাস/বৈদ্যুতিক বিল কপি।
নিজস্ব বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে
- মালিকানা/লিজ ডিড
- ২১ বছরের বায়া ডিড (মূল/সার্টিফাইড)
- সাম্প্রতিক সার্ভে রিপোর্ট
- মিউটেশন পর্চা
- আপ টু ডেট ১৩ বছরের NEC
- সর্বশেষ ভূমি কর রশিদ।
সরকারি প্লটের ক্ষেত্রেজনপ্রিয় পোস্টসমূহ
- লিজ ডিড
- ২১ বছরের বায়া ডিড (মূল/সার্টিফাইড)
- সাম্প্রতিক সার্ভে রিপোর্ট
- মিউটেশন পর্চা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে
- আপ টু ডেট ১৩ বছরের NEC
- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে জমি বন্ধকের অনুমতি
- সর্বশেষ ভূমি কর রশিদ।
- এপার্টমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে
- মালিকানা/লিজ ডিড
- ২১ বছরের বায়া ডিড (মূল/সার্টিফাইড)
- সাম্প্রতিক সার্ভে রিপোর্ট
- মিউটেশন পর্চা
- আপ টু ডেট ১৩ বছরের NEC
- মূল্য তালিকা সহ প্রকল্প গাইড
- ডেভেলপারের প্রোফাইল
- সর্বশেষ ভূমি কর রশিদ
- ডেভেলপার এর আইনজীবী দ্বারা জমির টাইটেল রিপোর্ট
- প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন।
সরকারি প্লটের ক্ষেত্রে
- লিজ ডিড
- ২১ বছরের বায়া ডিড (মূল/সার্টিফাইড)
- অ্যাটর্নি পাওয়ার (যদি থাকে)
- সাম্প্রতিক সার্ভে রিপোর্ট
- মিউটেশন পর্চা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে
- আপ টু ডেট ১৩ বছরের NEC
- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে জমি বন্ধকের অনুমতি
- মূল্য তালিকা সহ প্রকল্প গাইড
- ডেভেলপারের প্রোফাইল
- সর্বশেষ ভূমি কর রশিদ
- ডেভেলপার এর আইনজীবী দ্বারা জমির টাইটেল রিপোর্ট
- প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন।
ঢাকা ব্যাংক হোম লোন অনলাইন আবেদন
ঢাকা ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সুবিধার্থে বর্তমানে অনলাইনে হোম লোনের বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে। ঢাকা ব্যাংকের হোম লোনের অনলাইন আবেদন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে ঢাকা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে।
লোনের শর্তাবলী এবং সুদের হার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য সরাসরি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
লেখকের শেষ মতামত
আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই বাড়ি তৈরি করার জন্য হোম লোন সুবিধা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাই আমার মতামত হচ্ছে আপনাদের যাদের স্বপ্ন নিজস্ব একটি বাড়ি তৈরি করার কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি হয়ে ওঠে না। আপনি চাইলেই ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নিয়ে বাড়ি তৈরির স্বপ্নটি পূরণ করতে পারেন।
এই ছিল আজকের ঢাকা ব্যাংক হোম লোন সম্পর্কিত সকল তথ্য। এখানে সংক্ষেপে বিস্তারিত জানাতে চেষ্টা করেছি। এর বাইরেও আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি।
তো বন্ধু আশা করছি আপনি আমার এই পোস্টটি পড়ে ঢাকা ব্যাংক হোম লোন নিয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এরপরও বুঝতে অসুবিধা হলে কমেন্ট করে জানাবেন। আর্টিকেলটি আপনার পরিচিতদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারেন। এতে করে তারাও ঢাকা ব্যাংক হোম লোন সম্পর্কে জানতে পারবে। ধন্যবাদ।