সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে। আপনি যদি এ সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। অনেকেই সিটি ব্যাংক থেকে লোন করতে চাই কিন্তু জানে না সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে।
আপনি যদি সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে সিটি ব্যাংকের সিটি ব্যাংকের লোন পদ্ধতি সম্পর্কে। এছাড়া আজকে আর্টিকেলটি পরে আপনি সিটি ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের লোন সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাই অবহেলা না করে এই তথ্যগুলো জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।
সিটি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিচে বিস্তারিত ধাপগুলো দেওয়া হলো:জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
১.লোনের ধরন নির্ধারণ করা
- সিটি ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের লোন প্রদান করে, যেমন:
- ব্যক্তিগত লোন
- হোম লোন (বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয়ের জন্য)
- অটো লোন (গাড়ি ক্রয়ের জন্য)
- শিক্ষা লোন
- ব্যবসায়িক লোন
প্রথমে আপনাকে কোন ধরনের লোন প্রয়োজন তা নির্ধারণ করতে হবে।
২. সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার যোগ্যতা
- বয়স: সাধারণত ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে।
- আয়: আপনার মাসিক আয় লোনের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
- কর্মসংস্থান: স্থায়ী চাকরি বা ব্যবসা থাকতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারেন।
- ক্রেডিট স্কোর: ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকা জরুরি।
৩. সিটি ব্যাংক লোন নিতে কি কি লাগে
- আবেদন ফর্ম: সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে বা শাখা থেকে সংগ্রহ করুন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
- আয়ের প্রমাণপত্র: যেমন চাকরির সার্টিফিকেট, পে স্লিপ, বা ব্যবসার আয়ের প্রমাণপত্র।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র: ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ইত্যাদি)।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট: সাধারণত শেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন।
- টিন সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
৪. লোন আবেদন জমা দিন
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদন ফর্মটি সিটি ব্যাংকের শাখায় জমা দিন।
- অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকলে, সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করুন।
৫. লোন প্রক্রিয়াকরণ
- ব্যাংক আপনার আবেদন যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করবে।
- ক্রেডিট স্কোর এবং আর্থিক অবস্থা যাচাই করা হবে।
- লোনের পরিমাণ, সুদের হার, এবং কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
৬. লোন অনুমোদন এবং অর্থ প্রদান
- লোন অনুমোদিত হলে, ব্যাংক আপনাকে জানাবে।
- লোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর, লোনের অর্থ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
এছাড়াও সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বা নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন।লোনের সুদের হার এবং শর্তাবলী সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন। এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সিটি ব্যাংক থেকে লোন পেতে পারেন।
আরও পড়ুন>>> ব্র্যাক ব্যাংক হোম লোনজনপ্রিয় পোস্টসমূহ
সিটি ব্যাংক লোন
আপনি যদি সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে তার আগে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে যে আপনি কোন ধরনের লোন নিতে চাচ্ছেন বা কোনটি আপনার জন্য প্রয়োজন। সে অনুযায়ী আপনাকে লোন নিতে হবে। সিটি ব্যাংক গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন রকম লোন দিয়ে থাকে। নিচে সিটি ব্যাংকের লোনের ধরন গুলো তুলে ধরা হলো।
- হোম লোন
- বাইক লোন
- প্রবাসী লোন
- পার্সোনাল লোন
- অটো লোন
- ব্যবসায়িক লোন
আপনি সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন উপরে বর্ণিত খাত গুলোতে। তবে হ্যাঁ আপনি যদি উপরে বর্ণিত লোনগুলো সুবিধা পেতে চান তাহলে অবশ্যই এই ক্ষেত্রে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে যে নিয়ম কানুন ও শর্ত সমূহ রয়েছে অবশ্যই আপনাকে এগুলো মানতে হবে।
সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন
সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের স্যালারি লোন সুবিধা এবং শর্তাবলি নিম্নরূপ হতে পারে। তবে, সঠিক এবং আপডেটেড তথ্যের জন্য সরাসরি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শাখায় যোগাযোগ করা জরুরি।জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের বৈশিষ্ট্য
- ঋণের পরিমাণ: সাধারণত গ্রাহকের মাসিক বেতনের ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ৩০,০০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে)।
- ঋণের পরিমাণ: গ্রাহকের আয়, চাকরির স্থিতিশীলতা এবং ক্রেডিট স্কোরের উপর নির্ভর করে।
- সুদের হার: বার্ষিক ৯% থেকে ১২% পর্যন্ত (ব্যাংকের নীতি এবং গ্রাহকের প্রোফাইলের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে)।
- ঋণের মেয়াদ: ধারণত ১২ মাস থেকে ৬০ মাস (১ থেকে ৫ বছর) পর্যন্ত।
- প্রক্রিয়াকরণ ফি: ঋণের পরিমাণের উপর নির্ভর করে একটি প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রদান করতে হতে পারে।
যোগ্যতা
- স্থায়ী চাকরিজীবী (সরকারি/বেসরকারি চাকরি)।
- ন্যূনতম চাকরির অভিজ্ঞতা (সাধারণত ১ বছর বা তার বেশি)।
- মাসিক ন্যূনতম আয়ের প্রয়োজন হতে পারে (যেমন: ৩০,০০০ টাকা বা তার বেশি)।
- সাধারণত ২২ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে।
- ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকতে হবে (সাধারণত ৬৫০ বা তার বেশি)।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
- স্যালারি স্লিপ (সর্বশেষ ৩ মাসের)।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বশেষ ৬ মাসের)।
- চাকরির সার্টিফিকেট (নিয়োগপত্র বা চাকরির নিশ্চয়তা)।
- ফটোগ্রাফ (পাসপোর্ট সাইজ)।
এছাড়াও সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বা নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন।লোনের সুদের হার এবং শর্তাবলী সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন। এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সিটি ব্যাংক থেকে লোন পেতে পারেন।
সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন
সিটি ব্যাংকের যতগুলো লোন পদ্ধতি রয়েছে তার ভিতরে একটি হচ্ছে সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন পদ্ধতি। চলন তাহলে আর্টিকেলের এই অংশটি পড়ে আমরা জেনে আসি সিটি ব্যাংকের পার্সোনাল লোন পদ্ধতি সম্পর্কে। আর এতক্ষণ তো আমরা জানলামই সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় – সিটি ব্যাংক লোনের সুদের হার। চলুন তাহলে এবার এই পার্সোনাল অন পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আসি।
আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত যেকোনো ধরনের কাজের জন্য লোন করতে চান তাহলে সিটি ব্যাংক থেকে করতে পারবেন পার্সোনাল লোন। এখান থেকে লোন পেতে পারেন ৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। আর এ লোন পর্ষদ করার মেয়াদকাল হচ্ছে ১২ মাস থেকে শুরু করে ৬০ মাস সময় পর্যন্ত। সিটি ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন পেতে কিছু শর্ত রয়েছে রয়েছে আর সেগুলো হল –জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
- আবেদনকৃত ব্যক্তির বয়স হতে হবে ২২বছর থেকে ৬০ বছরের ভিতরে।
- আপনি সিটি ব্যাংক থেকে যে কাজের উপর পার্সোনাল লোন নিতে চাচ্ছেন সে কাজের ওপর কমপক্ষে আপনার ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর যদি বিজনেস নিয়ে কাজ করে তাহলে অবশ্যই বিজনেসের উপর তিন বছরের অভিজ্ঞ হতে হবে।
- আপনি যদি কোন কোম্পানির আওতাধীন কাজ করেন তাহলে অন্তত আপনাকে সেই বেতনের উপর ব্যাংকের ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে।
- এ সকল দিকের পাশাপাশি সিটিব্যাংক থেকে লোন নিতে আপনার কিছু কাগজপত্র দরকার হবে তা আমরা পয়েন্ট আকারের নিচে তুলে ধরেছি। চলুন এগুলো সম্পর্কে এবার জেনে নিন।
- আবেদনকৃত ব্যক্তির ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি দরকার হবে।
- এবং এর সঙ্গে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও থাকতে হবে।
- এক্ষেত্রে যে ব্যক্তিকে জামিনদার করবেন তার পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি থাকতে হবে।
- অফিস আইডি কার্ড / ভিজিটিং কার্ডের কপি দরকার হবে।
সিটি ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন নেওয়ার নেওয়ার জন্য ধর্মের সাথে উপরে বর্ণিত এই কাগজপত্র গুলো দিলে সাধারণত খুব সহজে সিটি ব্যাংক থেকে এই লোন পাওয়া যায়।
সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন সুদের হার
২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত, সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের পার্সোনাল লোন সুদের হার এবং শর্তাবলি নিম্নরূপ হতে পারে (সঠিক তথ্য এবং আপডেটের জন্য ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শাখায় যোগাযোগ করা জরুরি।
- সুদের হার: বাৎসরিক ৯ শতাংশ সুদে সিটি ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন নিতে পারবেন অর্থাৎ সিটি ব্যাংকের সুদের মাত্র ৯ শতাংশ।
- ঋণের পরিমাণ: সাধারণত ৫০,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত (গ্রাহকের আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার উপর নির্ভর করে)।
- ঋণের মেয়াদ: ১২ মাস থেকে ৬০ মাস (১ থেকে ৫ বছর) পর্যন্ত।
সুতরাং, সিটি ব্যাংকের নীতিমালা উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে। অতএব, এই পার্সোনাল লোন নেওয়ার জন্য সঠিক তথ্য প্রদান এবং নির্ভুল করতে হলে সিটি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
সিটি ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটর
সিটি ব্যাংক লোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে হলে আপনাকে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে লোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে হবে। তার জন্য আপনাকে কি কি ধাপ অনুসরণ করতে হবে সেই বিষয়ে নিম্নে ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলঃ
প্রথমত আপনাকে সিটি ব্যাংকের অফিশিয়াল লোন ক্যালকুলেটর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইট ঠিকানা: https://www.city.bank/resources/calculators/simple-loan-calculator
নিম্নের ছবিটি অনুসরণ করে বিস্তারিত ধাপ অনুসরণ করুনঃ
- প্রথমে ওয়েবসাইটের প্রবেশ করার পরে “Type of loan” নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন আমরা উপরে ছবিতে Mark করে দেখিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে লোনের ধরণ সিলেক্ট করতে হবে।
- এরপরে “Amount Borrowing” অপশনে লোনের পরিমান লিখুন।
- তারপরে “Lone Term Length” অপশনে লোনের অর্থ পরিশোধের সময় মাস হিসেবে লিখতে হবে।
- তারপরে “Interest Rate” অপশনে সুদের পরিমান লিখতে হবে।
তবে আবেদনকারীকে একটা বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, লোনের অর্থের পরিমান পরিবর্তিত হতে পারে লোনের বিতরণের তারিখ ও পরিশোধের তারিখের উপর নির্ভর করে।
আমাদের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আজকেরে আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সুবিধার দিক চিন্তা করে আলোচনা করেছি সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় এবং সিটি ব্যাংক লোনের সুদের হার সহ সিটি ব্যাংক লোন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত। আশা করছি আপনি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। কোথাও যদি বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে ব্যক্তিগতভাবে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
আর হ্যাঁ, আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে বেশি বেশি শেয়ার করে দিন। কারন আপনাদের এমন উৎসাহ গুলো আমাদেরকে কাজ করতে মোটিভেট করে। যদি এই সমস্ত আরও পেতে চান তাহলে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের এই ওয়েবসাইটটিতে।
সিটি ব্যাংকে একাউন্ট করতে কত টাকা লাগে?
সর্বনিম্ন ৫০০
সিটি ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট চার্জ?
৪.৫ মাসিক
সিটি ব্যাংকের মালিক কে?
দ্বীন মোহাম্মদ
আমার একটি একাউন্ট আছে সেই একাউন্ট থেকে কি লোন নিতে পারব দয়া করে জানাবেন প্লিজ। ধন্যবাদ
হ্যাঁ আপনি পারবেন। আপনার সেই একাউন্ট এ শোন নিতে।