সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন ২০২৫ (আপডেট)

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন সম্পর্কে জানেন কী? সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক যা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে আর্থিক ভাবে সহায়তা প্রদানের জন্য  স্টুডেন্ট লোন সুবিধা দিয়ে থাকে। এই লোনটি শিক্ষার্থীদের  বিশেষ করে শিক্ষাগত খরচ মেটানোর জন্য দেওয়া হয় যেমন: টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয়, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানোর চেষ্টা করবো। তাহলে আলোচনাটি শুরু করা যাক

Table of Contents

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন কী?

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন হলো এমন একটি আর্থিক সুবিধা, যা বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান মেটাতে ব্যাংক শিক্ষার্থীদের অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রদান করে থাকে। এই লোনটি মূলত শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা বা আইনি অভিভাবকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের সন্তানের শিক্ষার খরচ বহন করতে পারেন ও এই লোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশে বা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় সেটি নিশ্চিত করা। সিটি ব্যাংকের এই স্টুডেন্ট লোনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করা।

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন কাদের জন্য?

যেসকল শিক্ষার্থী দেশের মধ্যে বা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান, তাদের পিতা-মাতা বা আইনি অভিভাবকরা যদি শিক্ষার্থীদের পড়াতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে তারা সিটি ব্যাংক থেকে এই স্টুডেন্ট লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিশেষ করে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এই লোনটি অত্যন্ত উপযোগী, কারণ এটি টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, চিকিৎসা বীমা, এবং ভ্রমণ খরচের মতো বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে। তবে, দেশের মধ্যে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এটি UGC অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের জন্য লোনটি অনুমোদিত হতে পারে।

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোনের যোগ্যতা

প্রতিটি ব্যাংকের বেশ কিছু শর্তাবলী রয়েছে সকল শর্তাবলী অনুসরণ করলে উক্ত ব্যক্তি সিটি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার জন্য উপযুক্ত হিসেবে মিশ্রিত হবেন এক্ষেত্রে সিটি ব্যাংকের স্টুডেন্ট লোন এর ব্যতিক্রম নয়। সিটি ব্যাংক থেকে স্টুডেন্ট লোন পেতে গ্রাহককে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • শিক্ষাগত উদ্দেশ্য: লোনটি অবশ্যই উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অফার লেটার বা অন্যান্য প্রমাণপত্র প্রদান করতে হবে।
  • ন্যূনতম আয়: অভিভাবকদের মাসিক আয় সর্বনিম্ন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (সাধারণত ২০,০০০ টাকা বা তার বেশি) হতে হবে। তবে এটি শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তিত হতে পারে।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: সিটি ব্যাংকে একটি সচল হিসাব (একাউন্ট) থাকা আবশ্যক হতে পারে।

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংকের মতো সিটি ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করতে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করতে হবে এ সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সেটি ব্যাংক আপনাকে এই স্টুডেন্ট লোন প্রদান করবে।সিটি ব্যাংক থেকে স্টুডেন্ট লোনের আবেদন করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হবে:

আবেদনকারীর জন্য:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের স্পষ্ট ফটোকপি।
  • সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২টি রঙিন ছবি।
  • মাসিক আয়ের প্রমাণপত্র (বেতন স্লিপ, ব্যবসায়িক আয়ের প্রমাণ ইত্যাদি)।
  • বিগত ৬ মাস বা ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • ৫ লাখ টাকার বেশি লোনের ক্ষেত্রে ই-টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স রিটার্নের কপি।

গ্যারান্টরের জন্য:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের স্পষ্ট ফটোকপি।
  • সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ১টি রঙিন ছবি।
  • ভিজিটিং কার্ড (যদি থাকে)।
  • মাসিক আয়ের প্রমাণপত্র।
  • বিগত ৬ মাস বা ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

এছাড়াও, সিটি ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্রের তথ্য জানিয়ে দিবে।

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোনের সেরা বৈশিষ্ট্য

প্রতিটি ব্যাংকের মতো সিটি ব্যাংকের স্টুডেন্ট লোনের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে:

  • শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খরচের ভিত্তিতে লোনের পরিমাণ নির্ধারিত হয়, যা টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, এবং অন্যান্য শিক্ষাগত খরচ কভার করে।
  • লোনটি শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রদান করা হয়, যাতে অর্থের অপচয় কম হয়।
  • সাশ্রয়ী কিস্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারে লোন পরিশোধের সুযোগ।
  • সিটি ব্যাংকের “স্টুডেন্ট ফাইল” সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানো সহজ হয়।

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোনের মাধ্যমে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের টিউশন ফি, সেমিস্টার ফি, এবং আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা পান। এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ভিত্তিতে ৩, ৬, বা ১২ মাসের ব্যবধানে একাধিক ধাপে লোন গ্রহণ করতে পারেন। লোন পরিশোধের জন্যও সিটি ব্যাংক সহজ কিস্তির সুবিধা প্রদান করে।

আরো পড়ুন>>> অনলাইন মোবাইল লোন বাংলাদেশ ২০২৫ (আপডেট)

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন কত টাকা নেওয়া যায়?

সিটি ব্যাংক থেকে স্টুডেন্ট লোনের পরিমাণ শিক্ষার্থীর প্রয়োজন এবং আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, এটি শিক্ষার মোট খরচের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কভার করতে পারে, যা লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে উচ্চ পরিমাণ পর্যন্ত হতে পারে। তবে সঠিক পরিমাণ জানতে সিটি ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন>>>সিটি ব্যাংক অনলাইন লোন ২০২৫ (আপডেট তথ্য)

সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

স্টুডেন্ট লোন পরিশোধের সময় কত?

সাধারণত ৫ বছর বা ৬০ মাসের মধ্যে লোন পরিশোধ করতে হয়। তবে এটি লোনের শর্তের ওপর নির্ভর করে।

সন্তান বিদেশে থাকলে কীভাবে টাকা পাঠানো সম্ভব?

সিটি ব্যাংকের “স্টুডেন্ট ফাইল” সার্ভিসের মাধ্যমে অভিভাবকরা বিদেশে তাদের সন্তানের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন।

লোন নিতে গ্যারান্টর প্রয়োজন কি?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্যারান্টর প্রয়োজন হয়। গ্যারান্টরের জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, এবং আয়ের প্রমাণ প্রদান করতে হবে।

সর্বোচ্চ কত টাকা লোন নেওয়া যায়?

সিটি ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ লোনের পরিমাণ শিক্ষার খরচ এবং আবেদনকারীর যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।

শেষ কথা

শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হতে পারে। এই লোনের মাধ্যমে অভিভাবকরা তাদের সন্তানের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পারেন। আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাকে সিটি ব্যাংক স্টুডেন্ট লোন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছে। আরও তথ্যের জন্য সিটি ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করুন।

About Masum Siddique

Professional writer

View all posts by Masum Siddique →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *